‘‘সুমির রান্নাবান্না’’
২৬ আগস্ট, ভরদুপুরে গিয়ে পৌঁছালাম। হাসিমুখে দরজা খুলে দিলেন তিনি নিজেই। রাজধানীর নিকেতনের সেই বাড়িতে ঢুকতেই রান্নার সুগন্ধে মন ভরে গেল। গল্প করতে করতেই সেরে নিচ্ছিলেন রান্নার বাকি কাজগুলো। রান্নায় যে পটু সেটা তাঁর রান্নার তদারকি দেখেই বুঝতে পারছিলাম। অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও নকশার জন্য সময় বের করেছেন গানের দল চিরকুটের শারমীন সুলতানা সুমি। আগের দিন সারা রাত স্টুডিওতে গানের রেকর্ডিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সকালে বাড়ি ফিরেই রান্না করতে লেগে যান। তারপরও চোখে-মুখে নেই কোনো ক্লান্তির ছাপ। রান্না পছন্দের কাজ বলেই হয়তো। তাঁর পছন্দের ঈদের নানা পদ রান্না করেছেন।
রান্নাবান্না নিয়ে গল্প করলেন সুমি। ‘বাড়িতে বোনরাই রান্নার দায়িত্ব পালন করত। একজনের বিয়ে হয়ে গেলে আরেকজনের ঘাড়ে এসে পরত রান্নার দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই আমার রান্না শেখা।’ সুমি জানালেন নিজে থেকেই শিখেছেন অনেক কিছু। রান্নায় হলুদ, আদা, ধনেপাতা ব্যবহার করেন না কখনোই। কাটা মসলা দিয়ে রান্না করেন। রান্নায় পেঁয়াজের ব্যবহার বেশি হয়। ছোট মাছের চচ্চড়ি, বেগুন দিয়ে মাছ, চালকুমড়া ভাজির মতো দেশি পদ রান্না করতে পছন্দ করেন এই সংগীতশিল্পী। নিজের পরিবারে সুমির রান্নার যেমন সুনাম রয়েছে, তেমনি তাঁর হাতের চা-ও পছন্দ করেন সবাই।
খাওয়ার সময় মসলার গন্ধ শুঁকেই তিনি বলে দিতে পারেন কী কী ব্যবহার করা হয়েছে। সুমি জানালেন, ‘যে কাজটাই করি, মন দিয়ে করার চেষ্টা করি। রান্নাটাও সে রকম। রান্না করার সময় পুরো মনোযোগ সেখানেই থাকে।’ খাওয়ার সময় বোঝা গেল কথা সত্যি। ঈদের দিনে একসময় রান্না করা হতো কোনো না কোনো কিছু। এখন অবশ্য সে সময় ও সুযোগ কম।
মমম
ছবি তোলার মধ্যেই উপস্থিত হলেন চিরকুট দলের অন্য সদস্যরা। সুমির কাছে তাঁরা পরিবারের সদস্যের মতোই। একা কোনো কিছুই যেন করতে চান না। বাড়িতে ভালো-মন্দ কিছু রান্না হলে তাঁদের ডাক পড়বেই। সেদিনও নিজ হাতে রান্না করা খাবার দলের সবাইকে নিজের হাতেই পরিবেশন করলেন। ঈদের দিনে তাঁদের সঙ্গে দেখা করাটাও যেন অনেকটা আবশ্যক। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি দলের যাঁরা ঢাকায় থাকেন ঈদের দিন তাঁদের সঙ্গে ঘুরতে বের হন।
টক-ঝাল মুরগির কোরমা
উপকরণ: ফার্মের মুরগি ৪টা, বড় ১ বাটি পেঁয়াজ, বড় আকারের রসুন ২টা কুচি করা, গরমমসলা পরিমাণমতো, লবণ স্বাদ অনুযায়ী, মরিচ গুঁড়া ৪ চা-চামচ, টক দই ১ কাপ, চিনি স্বাদমতো ও লেবু ২-৩ টুকরা বা স্বাদমতো।
প্রণালি: প্রথমে একটু পেঁয়াজ ভেজে (বেরেস্তা) নিতে হবে। তারপর তার মধ্যে মুরগি দিয়ে দিন। এবার একে একে পেঁয়াজ, রসুন, গরমমসলা, লবণ, মরিচ গুঁড়া দিয়ে দিন। ভালোমতো কষান। কষানো হলে টক দই দিয়ে দিন। এবার লেবুর রস দিয়ে দিন। আপনি কতটুকু টক স্বাদ পছন্দ করবেন, সেটার ওপর নির্ভর করে লেবুর রস দিন। একটু চিনি দিন। তেলটা বের হয়ে নামিয়ে নিন। পরিবেশনের সময় আবার কিছু বেরেস্তা ভেজে তার ওপর দিয়ে দিতে হবে। এই মুরগির স্বাদটা একটু টক-ঝালের হবে।
ফালুদা
উপকরণ: সাগু ২ কাপ, চিনি ২ কাপ, বিভিন্ন রঙের জেলো, ভ্যানিলা আইসক্রিম আধা লিটার, রুহ্ আফজা অল্প পরিমাণে।
প্রণালি: সাগু প্রথমে গরম পানিতে সেদ্ধ করে নিন। সাগু সেদ্ধ করার সময় চিনি দিয়ে দিন। সাগু যাতে গলে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। নির্দেশনা অনুযায়ী জেলো তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিন। জমে গেলে মনমতো আকারে কেটে নিতে হবে। এবার একটি জগে সাগুদানা, ১ চা-চামচ রুহ্ আফজা, আইসক্রিম, কাটা জেলো একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। পরিবেশনের আগে খেয়ে দেখুন। চিনি কম হলে আবার দিয়ে দিন। পরিবেশনের সময় ওপরে একটু আইসক্রিম, রুহ্ আফজা, বিভিন্ন ফল দিয়ে সাজিয়ে নিন।
জর্দা
উপকরণ: চাল ২ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, সয়াবিন তেল ১ টেবিল চামচ, গরমমসলা, দারুচিনি পরিমাণমতো, চিনি ২ কাপ, জাফরান অল্প পরিমাণে, মোরব্বা ১টি বার।
পোলাও
উপকরণ: চাল ২ কাপ, রসুন বাটা ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, এলাচি ৮-১০টি ও চিনি স্বাদমতো।
প্রণালি: প্রথমে বেরেস্তা ভেজে নিতে হবে। কিছুটা বেরেস্তা সরিয়ে রাখুন। এবার তার মধ্যে ধোয়া চাল দিয়ে দিন। এবার রসুন বাটা ও এলাচি দিয়ে দিন। ভুনতে থাকুন। ভুনা হয়ে গেলে চাল ঝরঝরে হওয়ার জন্য পরিমাণমতো পানি দিয়ে দিন। লবণ ও একটু চিনি দিতে পারেন। আলু বোখারা পোলাও হয়ে যাওয়ার ঠিক আগে আগে দিয়ে দিন। পানি প্রায় শুকিয়ে এলে কিছুক্ষণের জন্য ঢেকে দিই। এতে ঝরঝরে হয়। এরপর পরিবেশন।





সুমির রান্নাবান্না আপনারা পড়ে দেখতে পারেন। কিছু শিখার আছে। বিশেষ করে মহিলাদের উপকারে আসবে।
ReplyDelete